দেশ-দেশান্তর ডিজিটাল পাবলিশিং ই-বুক প্ল্যাটফর্ম: বাংলা সাহিত্যের নতুন দিগন্ত

 


ভূমিকা

ই-বুক রিডারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলা সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো "দেশ-দেশান্তর ডিজিটাল পাবলিশিং"। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত প্রিন্ট করা গল্প/উপন্যাসের ই-বুক সংস্করণ প্রকাশ করে থাকে, এমনকি অপ্রকাশিত পান্ডুলিপিও। তাদের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে পাঠকরা সহজেই এই ই-বুকগুলো কিনতে ও পড়তে পারেন।

দেশ-দেশান্তরের বৈশিষ্ট্য

দেশ-দেশান্তর ডিজিটাল পাবলিশিং-এর কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:

  • বৈচিত্র্যময় বই: দেশ-দেশান্তরে বিভিন্ন ধরণের বাংলা গল্প ও উপন্যাসের ই-বুক পাওয়া যায়। সমসাময়িক সাহিত্য থেকে শুরু করে ক্লাসিক উপন্যাস, সব ধরণের পাঠকের জন্যই এখানে বই আছে।
  • সহজলভ্যতা: দেশ-দেশান্তরের অ্যাপটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। নো-ইউজার লগইন/সাইন আপ সিস্টেমের মাধ্যমে পাঠকরা সহজেই বই কিনতে ও পড়তে পারেন। ফর্ম পূরণ করে আইপি এড্রেস দিলেই ২৪ ঘন্টার ভেতর ই-বুক এক্সেস পেয়ে যাবেন ব্যবহারকারী।
  • সুবিধাজনক পেমেন্ট: দেশ-দেশান্তরে সকল সাধারণ পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়। যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট, সেলফিন, পেয়োনিয়ার।
  • কম দাম: দেশ-দেশান্তরের বইগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম। প্রিন্টেড বইয়ের তুলনায় এখানে বই কেনা অনেক বেশি সস্তা।
  • নিয়মিত নতুন বই: দেশ-দেশান্তরে নিয়মিত নতুন নতুন বই যুক্ত হচ্ছে।

দেশ-দেশান্তরের প্রভাব

দেশ-দেশান্তর ডিজিটাল পাবলিশিং বাংলা সাহিত্যের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এই প্ল্যাটফর্মটি পাঠকদের জন্য বই পড়া আরও সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলেছে।

  • পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি: দেশ-দেশান্তরের কারণে বাংলা সাহিত্যের পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রিন্টেড বই কিনতে অসুবিধা বোধ করেন, তাদের জন্য দেশ-দেশান্তর একটি বড় সুযোগ।
  • লেখকদের সুযোগ বৃদ্ধি: দেশ-দেশান্তরের মাধ্যমে নতুন লেখকদের জন্য প্রকাশনার সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রিন্টেড বই প্রকাশের তুলনায় ই-বুক প্রকাশ করা অনেক সহজ ও কম খরচসাপেক্ষ।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রসার: দেশ-দেশান্তরের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য বিশ্বায়নের নতুন সম্भावনা তৈরি হয়েছে। ই-বুকের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলা পাঠকরা সহজেই বাংলা বই পড়তে পারবেন। এছাড়াও, অন্য ভাষাভাষী মানুষ্যদের কাছে বাংলা সাহিত্যকে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও দেশ-দেশান্তরের মতো প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    দেশ-দেশান্তর ব্যবহারের সুবিধা

    দেশ-দেশান্তর অ্যাপটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। নিচে দেশ-দেশান্তর ব্যবহারের কিছু সুবিধা দেওয়া হলো:

    • কোনো রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলা নেই: দেশ-দেশান্তরে বই পড়তে কোনো আলাদাভাবে রেজিস্ট্রেশন করার দরকার নেই।
    • ফোনেই বই পড়ার সুবিধা: দেশ-দেশান্তরের অ্যাপটি স্মার্টফোনেই চালানো যায়। ফলে, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় বই পড়া যায়।
    • ই-বুকের সুবিধা: প্রিন্টেড বইয়ের তুলনায় ই-বুকের অনেক সুবিধা আছে। যেমন, ই-বুক কার্যত ওজনহীন, ফলে যেকোনো সময় হাজারো বই সাথে রাখা যায়। এছাড়াও, ই-বুকে ডার্ক মোড সুবিধা থাকায় চোখের উপর কম প্রভাব পড়ে।
    • বই উপহার দেওয়া: দেশ-দেশান্তরের মাধ্যমে বই উপহার দেওয়া যায়।

    দেশ-দেশান্তর: লেখকদের জন্য

    দেশ-দেশান্তর শুধু পাঠকদের জন্যই না, লেখকদের জন্যও দার খুলে দিয়েছে। দেশ-দেশান্তরে লেখকরা তাদের লেখা জমা দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে লেখকদের কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

    • মৌলিকত্ব: দেশ-দেশান্তরে অবশ্যই মৌলিক লেখা জমা দেওয়া যাবে। লেখা জমা দিতে desh.deshantor22@gmail.com বরাবর ইমেইল করতে হবে।
    • সম্পাদনা: দেশ-দেশান্তরের সম্পাদনা টিম লেখা সম্পাদনা করে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করবে।
    • রয়্যালটি ভাগাভাগি: ৫০ বই বিক্রি হলে লেখককে ৩৫-৬০% রয়্যালটি দেওয়া হবে।

    উপসংহার

    দেশ-দেশান্তর ডিজিটাল পাবলিশিং বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই প্ল্যাটফর্মটি পাঠক ও লেখক, दोनोंকেই সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধি ঘটাতে ভূমিকা রাখবে।

Comments

Popular posts from this blog

পৃথিবীর সব সুর থেমে যাওয়ার পর কি হবে?

বইমেলা ২০২৪ এ আসছে রাগিব নিযামের "এক ডজন ভয়"